
আর্জেন্টিনার ফুটবলে গত কয়েক দিন ধরে ঝড় বয়ে যাচ্ছে! যাদের আর্জেন্টিনার লীগ ফুটবল খুব একটা ফলো করা হয় না, তাদের জ্ঞাতার্থে বলি- আর্জেন্টিনার ফুটবল লীগের বছর মূলত দুই ভাগে ভাগ করা। লীগের প্রথম ভাগে যারা এগিয়ে থাকে তাদেরকে নিয়ে হয় এপারতুরা বা ওপেনিং টুর্নামেন্ট। লীগের শেষে ভাগে আবার নতুন করে খেলা হয়, এবার টেবিলে এগিয়ে থাকা দলগুলোর মধ্য থেকে আবার হয় ক্লাউসুরা বা ক্লোসিং টুর্নামেন্ট। আর্জেন্টিনার এক সিজনে তাই চ্যাম্পিয়ন হতে পারে দুই ভিন্ন দল। এবছরে ওপেনিং টুর্নামেন্ট যেমন জিতেছে প্লাটেনসে। এখন চলছে ক্লাউসুরা টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল।
তবে ঘটনার শুরু রাউন্ড অফ সিক্সটিনের আগে। হঠাৎ করেই পুরো বছরের লীগে পাওয়া পয়েন্ট হিসেব করে আনহেল ডি মারিয়ার রোজারিও সেন্ট্রালকে লীগের চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশন (আফা)। অথচ বছরের শুরুতে এমন কোন টাইটেল দেয়া হবে তার ঘোষণা হয়নি, শুরু হয় তুমুল বিতর্ক আর সমালোচনা। আর এর বেশিরভাগটাই গিয়ে পড়ে চিকি তাপিয়ার ঘাড়ে। এই নতুন টাইটেলের মানে হচ্ছে এই বছরে আর্জেন্টিনার লীগের চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে তিন ভিন্ন দল!
আফা থেকে এস্তুদিয়ান্তেসকে বলা হয় রোজারিও সেন্ট্রালকে রাউন্ড অফ সিক্সটিনের ম্যাচে গার্ড অফ অনার দেয়ার জন্যে। ম্যাচের আগে এস্তুদিয়ান্তেসের চেয়ারম্যান এবং সাবেক আলবিসেলেস্তে তারকা ভেরন কড়া সমালোচনা করেন আফার। গার্ড অফ অনারের সময় ডি মারিয়ারা ঢুকলে প্রতিবাদ স্বরূপ পেছনে মুখ দিয়ে দাঁড়ায় খেলোয়াড়েরা। আফা এই ঘটনাকে হালকা ভাবে নেয়নি, চ্যাম্পিয়নদের সম্মান না জানানোর জেরে ফেডারেশন ভেরনকে ছয় মাসের জন্যে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর পেছন ঘুরে প্রতিবাদ জানানো খেলোয়াড়দেরও শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে!
এর পেছনের রাজনীতিটা অবশ্য আজকের নয়। বেশ কিছু সময় ধরেই ভেরন চেষ্টা করছেন এস্তুদিয়ান্তেস ক্লাবকে প্রাইভেটাইজ করার, যাতে বাইরের ইনভেস্টররা টাকা ঢালতে পারেন। বলে রাখা ভালো যে আর্জেন্টিনার বেশিরভাগ ক্লাবগুলোই সদস্য বা সোশিওদের দিয়ে চলে। ইনভেস্টর আসলে সোশিওদের বদলে সব সিদ্ধান্তগুলো নেবে কোম্পানির বড় কর্মকর্তারা, যেমনটা ইউরোপের অনেক ক্লাবে হয়। এই মডেলকে প্রমোট করছেন খোদ আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলেই। অন্যদিকে আফার আর তাপিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের ঠিক আগে এই ঝড় দেশের ফুটবল কাঠামোকে একদিকে নড়বড়ে যেমন করে দেবে, অন্যদিকে জাতীয় দলের ওপরেও প্রভাব ফেলতে পারে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি খুব দ্রুতই ঠাণ্ডা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না।
Leave a comment