Albiceleste Stories

A love letter to Argentine Football

হিরশল- এক ভুলে যাওয়া জাদুকর পর্ব ১

পুস্কাস থেকে ম্যারাডোনার দেশে ১৯২০ সনের আশেপাশে ফুটবল খেলাটার মধ্যে একটা পরিবর্তন আসছিল যার কেন্দ্র ছিল ইউরোপ। ইউরোপের ঘাসে ফুটবল ট্যাকটিকস বদলাচ্ছিল দ্রুত গতিতে। সেখানকার বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজে ফুটবল এতোটাই গেড়ে বসেছিল যে লোকেরা সারাদিন ক্যাফেতে বসে ধুমসে ফুটবলের চর্চা করত, ট্যাকটিকস নিয়ে আলাপ আলোচনা করত। বিশেষ করে বিশের দশকের দিকে অস্ট্রিয়ান- হাঙ্গেরিয়ান ক্যাফেগুলো এমন ফুটবল…

পুস্কাস থেকে ম্যারাডোনার দেশে

১৯২০ সনের আশেপাশে ফুটবল খেলাটার মধ্যে একটা পরিবর্তন আসছিল যার কেন্দ্র ছিল ইউরোপ। ইউরোপের ঘাসে ফুটবল ট্যাকটিকস বদলাচ্ছিল দ্রুত গতিতে। সেখানকার বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজে ফুটবল এতোটাই গেড়ে বসেছিল যে লোকেরা সারাদিন ক্যাফেতে বসে ধুমসে ফুটবলের চর্চা করত, ট্যাকটিকস নিয়ে আলাপ আলোচনা করত। বিশেষ করে বিশের দশকের দিকে অস্ট্রিয়ান- হাঙ্গেরিয়ান ক্যাফেগুলো এমন ফুটবল আলোচনার জন্যে পরিচিত ছিল। তারপর একদিন সব বদলে গেল, পুরো পৃথিবী দ্বিতীয় বারের এক কঠিন পরীক্ষায় বসল, শুরু হল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।

জীবন আর পরিবার বাঁচানোর তাগিদে অনেকেই সমুদ্র পাড়ি দিল। এই জনসমুদ্রের মধ্যেই এক হাঙ্গেরিয়ান তরুণ পাড়ি জমান দক্ষিণ আমেরিকায়। কাগজ পত্রে ভদ্রলোক মাংস ব্যবসায়ী, নাম- ইমরে হিরশল, জন্ম ১৯০০। কেউ তখনও জানতো না, বা অনেকে আজও জানে না, এই লোকটাই আর্জেন্টিনার ফুটবলের ম্যাপ বদলে দেবেন। এই গল্পটা সেই উদ্বাস্তু হাঙ্গেরিয়ান কোচের।

এই বোকার শহরে আমি একা জাদুকর

শত বছর আগের বলে নয়, হিরশলের অতীত নিয়ে খুব বেশি ভরসা করার মত তথ্য পাওয়া যায় না। কেন? সেই কথায় আসছি। ইউরোপ থেকে দক্ষিণ আমেরিকায় আসার পরের জীবনটা হিরশলের গড়ে উঠেছিল অনেক মিথ্যে বা আংশিক সত্যের ওপর ভর করে। বুদাপেস্ট থেকে অদূরের এক ছোট শহর থেকে উঠে আসেন হিরশল। নিজের অতীত নিয়ে লা ত্রিবুনাকে দেয়া ১৯৩৯ এর এক সাক্ষাৎকারে হিরশল দাবি করেন তিনি বুদাপেস্ট এথলেটিক ক্লাব এবং ফেরেঙ্কভারোসিতে খেলেছেন।

এমনকি তার ভাণ্ডারে নাকি চেক প্রজাতন্ত্র, ভারত, আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও জার্মানিতে খেলবার অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কোথাও এর বিন্দুমাত্র উল্লেখ নাই, সবটাই খুব সম্ভবত গল্প! ফুটবল ইতিহাসবিদরা সন্দেহ করেন হিরশল কোনদিন প্রফেশনাল ফুটবল খেলেননি। একমাত্র তথ্য যা নিশ্চিত হওয়া যায় তা হচ্ছে ভদ্রলোক এক সালামির দোকানের অংশীদার ছিলেন আর মাংস বিক্রি করতেন।

আমি নিজে ফেরেঙ্কভারোসি ক্লাবের সাথে যোগাযোগ করি যে আসলেই হিরশল তাদের ক্লাবের হয়ে কখনও খেলেছেন কিনা। ক্লাব থেকে সেই ইমেইলের উত্তর আসে একদিন- না, এখন পর্যন্ত যা তথ্য আছে, সে অনুযায়ী এমেরি হিরশল তাদের ক্লাবের হয়ে খেলেননি!

কেন আমেরিকায় ফুটবল কোচিং ক্যারিয়ার গড়েছিলেন তিনি? খুব সম্ভবত টাকা জমিয়ে স্ত্রী আর সন্তানকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন নিজের কাছে। সেটার একটা ট্র্যাজিক পরিণতিও হয়েছিল। সেসব বাদ দিয়ে ফুটবলে ভদ্রলোক কি করেছিলেন সেটাই বলছি।


Discover more from Albiceleste Stories

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a comment